শেখ সোহেল, বাগেরহাট
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ১২:১২ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের বেশিরভাগ এলাকা লবণপানিতে প্লাবিত হওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে উপকূলবাসী। প্রবা ফটো
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের বেশিরভাগ এলাকা লবণপানিতে প্লাবিত হওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে উপকূলবাসী। লবণপানি প্রবেশ করেছে সুপেয় পানির আধার সরকারি-বেসরকারি পুকুরে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার পিএসএফ ও টিউবওয়েল। সরবরাহের ভূগর্ভস্থ অধিকাংশ পানির ট্যাংক ডুবে গিয়ে ময়লাপানি ঢুকে পড়েছে। ফলে ট্যাংকের পানিও দূষিত হয়ে গেছে। এতে জেলার মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার অনেকে বাধ্য হয়ে লবণপানি পান করছে। ঝড় শেষ হওয়ার পরে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার পাওয়া গেলেও, সুপেয় পানির সরবরাহ নেই দুর্গত এলাকায়। সংকট এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শরণখোলার দ্বীপচর এলাকার শাহিন শিকদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে আমাদের পুরো এলাকা লবণপানিতে প্লাবিত হয়েছিল। মানুষ আমাদের বাড়ির পুকুরের পানি পান করত। কিন্তু পুকুরে লবণপানি ঢুকে এখন খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে লবণপানি পান করছে অনেকে।
একই উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের আরাফাত রহমান বলেন, ঝড়ে গাছ পড়ছে, ঘর ভেঙেছে, রাস্তা ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে। সেসব এখন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পুকুরের পানি যে লবণ হয়ে গেছে, তা মিষ্টি করব কী দিয়ে? পানির যে কী কষ্টÑ বলে বোঝানো যাবে না।
একই গ্রামের সনিয়া বেগম বলেন, ঝড় চলে গেছে, কিন্তু আমাদের সব জায়গায় লবণপানি দিয়ে গেছে। মূলত বৃষ্টির পানি খাচ্ছি আমরা। কিন্তু গোসল-রান্নাÑ এসব কাজের জন্য বাধ্য হয়ে লবণপানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেকের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। পেটের সমস্যাও হচ্ছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া এলাকার ঘষিয়াখালী গ্রামের মো. আব্দুল কাদের বলেন, ঝড়ে এত বেশি পানি হয়েছিল যে, পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। এখনও বেশিরভাগ জায়গায় পানি জমে আছে। বাজারের যে পুকুরের পানি সবাই পান করত, তা এখন লবণাক্ত। সরকারিভাবে উপজেলা শহরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে, কিন্তু আমরা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নদীর তীরবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোয় খাবার পানির সরবরাহ করার দাবি জানাচ্ছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলাসহ দুর্গত এলাকার মানুষদের জন্য ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলায় তিনটি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ১২ হাজার লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।